বিয়ে ও দেনমোহরের ব্যাপারে শরিয়ত কি বলে!!!
<3 <3 <3 বিয়ে ও দেনমোহরের ব্যাপারে শরিয়ত কি বলে!!!
বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন। বিয়ের মাধ্যমে মিলন হয় ২টি মানুষের ২ টি পরিবারের। -অনেকেই ঢালাও ভাবে বলে থাকে, বিয়ে করা ফরজ। চলুন জেনে নেই , বিয়ে করার বিধান-
##ফরজ : - যার আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতা আছে এবং বিয়ে না করলে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তার জন্য বিয়ে করা ফরজ।
##হারাম :- যার আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতা নেই, অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার ভয়ও নেই, তার জন্য বিয়ে করা হারাম।
##সুন্নাত :- যার আর্থিক ক্ষমতা নেই, শারীরিক ক্ষমতা আছে এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার কিছুটা ভয়ও আছে, তার জন্য বিয়ে করা সুন্নাত।
##মুস্তাহাব :- যার আর্থিক ক্ষমতা নেই, শারীরিক ক্ষমতা আছে এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার ভয়ও নেই , তার জন্য বিয়ে করা মুস্তাহাব।
##মাকরূহ:- যার শারীরিক ক্ষমতা নেই, শুধু আর্থিক ক্ষমতা আছে, তার জন্য বিয়ে করা মাকরূহ।
.
✔ শারীরিক ক্ষমতা মানে = যৌবনশক্তি . . . ।
✔ আর্থিক ক্ষমতা মানে = স্ত্রী ও নিজের ভরণপোষণ . . ।
যারা সব থাকা সত্ত্বেও যে কোন কারণে বিয়ে করতে বিলম্ব করছেন, তারা বেশি বেশি রোজা রাখতে ভুলবেন না। এই রোজা আপনাকে সংজত রাখবে।
<3 ##কোন চারটি গুন দেখে বিবাহ করতে হয় ঃ-
আল্লাহ্র হাবিব দয়াল নবী (সঃ) বলেন মেয়েদের বিয়ে করার আগে তার ৪ টি বিষয় দেখে বিয়ে কর।
১)রূপ-সৌন্দর্য ।
২)বংশ মর্যাদা।
৩)ধন-সম্পদ।
৪) দ্বীন-ধর্ম।
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ ﷺ، قَالَ: «تُنْكَحُ المَرْأَةُ لأَرْبَعٍ : لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاك». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারটি গুণ দেখে নারীকে বিবাহ করা হয়; তার ধন-সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য এবং তার দ্বীন-ধর্ম দেখে। তুমি দ্বীনদার পাত্রী লাভ করে সফলকাম হও। (অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।)’’
নোট : লোকেরা সাধারণতঃ মহিলার এই চার গুণ দেখে বিবাহ করে থাকে। তুমি দ্বীনদার পেতে আগ্রহী হও, তাকে বিবাহ কর এবং তার সঙ্গ ও সাহচর্য পেয়ে ধন্য হও।
[বুখারি ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ি ৩২৩০, আবু দাউদ ২০৪৭, ইবন মাজাহ ১৮৫৮, আহমদ ৯২৩৭, দারেমি ২১৭০]
<3 দেনমোহর......
মাহার” একটি আরবী শব্দ। আমাদের দেশে যা দেনমোহর বা মোহরানা হিসাবে প্রচলিত। -বহুবচনে ﻣﻬﻮﺭﺓ – ﻣﻬﻮﺭ আভিধানিক অর্থে- স্ত্রীর মাহার। বিবাহ বন্ধনের প্রেক্ষিতে স্বামী তার স্ত্রীকে যে অর্থ/সম্পদ প্রদান করে তাকে মাহার বলে।
মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর বিয়ের একটি অন্যতম শর্ত।মুসলিম নিকাহ অনুযায়ী একটি শুদ্ধ বিয়ের জন্য দেনমোহর অত্যাবশ্যকীয়। দেনমোহর নির্ধারণ ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। বিয়ের সময় যদি দেনমোহর নির্ধারিত না হয়ে থাকে, অথবা স্ত্রী কোনো দেনমোহর দাবি করবে না শর্তে বিয়েটি যদি সম্পাদিতও হয়, তবুও স্বামীকে দেনমোহর দিতে হবে স্ত্রীকে। এ ক্ষেত্রে স্বামীর কোনো ধরনের অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রীকে দেনমোহর দেওয়া থেকে বিরত থাকার আইনগত সুযোগ নেই।
বিবাহ ইচ্ছুক প্রত্যেক পুরুষের জন্য মাহার প্রদান করা ওয়াজিব। আল্লাহ তা’আলা বলেন –
..“ উল্লেখিত নারীগণ ব্যতিত অন্য নারীকে অর্থব্যয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হল।“ [সূরা আন-নিসাঃ২৪]
একই সূরাতে আল্লাহ বলেন –
“ আর তোমাদের স্ত্রীদের তাদের মাহার দিয়ে দাও খুশি মনে।“ [সূরা আন-নিসাঃ৪]
অবশ্য স্ত্রী চাইলে মাহারের কিছু অংশ কিংবা সম্পূর্ণ অংশ ছেড়ে দিতে পারে
##দেনমোহর ছাড়া বিয়ে ঃ- সাধারণত দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক দেনমোহর এবং বিলম্বিত দেনমোহর। তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রী চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হয়। আর বিলম্বিত দেন মোহর বিয়ের পর যেকোনো সময় পরিশোধ করা যায়। তবে মৃত্যু বা বিয়ে বিচ্ছেদের পর দেনমোহর অবশ্যই পরিশোধ করতে হয়। তখন দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর ঋণ হিসেবে থাকে।
##শাড়ি, গয়না, কসমেটিকস দেনমোহর বলা যায় ঃ- বিয়ের সময় দেওয়া শাড়ি, গহনা, কসমেটিকস বা অন্যান্য জিনিষপত্র দেনমোহরের অংশ নয়। এগুলো স্বামী বা তার পরিবার কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে না। অনেক সময় বিয়ের কাবিননামায় শাড়ি, গহনার মূল্য ধরে দেনমোহরের একটি অংশকে উসুল ধরা হয়। এটা ঠিক নয়। দেনমোহর স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া কিছু অর্থ বা মূল্যবান সম্পদকে বোঝাবে, অন্য কিছু নয়।
##মাহারের প্রকারভেদ:
ওয়াজিব মাহার ২ প্রকার –
১/ নির্ধারিত বা মুসাম্মা মাহারঃ বিয়ের সময় বা বিয়ের পর উভয় পক্ষ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যে মাহার নির্ধারন করে তাকে নির্ধারিত বা মুসাম্মা মাহার বলে। [মাতালিবু উলিন নুহা; খন্ড-৫ ; পৃঃ ১৭৩]
২/ মাহারে মিছালঃ স্ত্রীর সমপর্যায়ের মেয়েদের মাহার তুলনা করে যে পরিমাণ মাহার স্বামী ও স্ত্রীর পক্ষ পছন্দ করে তাকে মাহারে মিছাল বলে। [রওদাতুত তলিবিন; খন্ড-৮ ; পৃঃ ২৮২]
##দেনমোহরের পরিমান ঃ- দেনমোহর স্বামীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নির্ধারণ করতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান ও স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেনমোহর এত অধিক হওয়া উচিত নয় যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়; আবার এত কম হওয়া উচিত নয় যা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে না
সাধারণভাবে মাহার কম ধার্য করাই মুস্তাহাব।রসূল(সাঃ)বলেন –
“ সে নারী বরকতের মাঝে আছে যাকে প্রস্তাব দেয়া সহজ ও যার মোহরানা অল্প” [ মুসনাদু আহমাদ; হাসান সানাদে]
যদি লোক দেখানো উদ্দেশ্য না হয়, পরিশোধের ইচ্ছা থাকে এবং সামর্থ্যও থাকে তাহলে অধিক পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করার েেত্র শরয়ি দৃষ্টিকোণে কোনো বাধা নেই। তবে শরিয়ত মোহরের সর্বনি¤œ পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে। তা হানাফি মাজহাবের মতে ১০ দিরহাম।
অর্থাৎ দুই তোলা সাড়ে সাত মাশা রুপা (৩০.৬১৮ গ্রাম রুপা) অথবা এর সমপরিমাণ মূল্য নির্ধারণ করা। এর চেয়ে কম পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করা স্ত্রী রাজি হলেও তা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে না।
এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ১০ দিরহামের কম কোনো মোহর নেই (বায়হাকি শরীফ, ৭/২৪০)
দেনমোহর পরিশোধ না করা পর্যন্ত এ অধিকার বহাল থাকবে। প্রয়োজনে স্বামীর সম্পত্তি থেকে স্ত্রী তা আদায় করে নিতে পারবেন।
বর্তমানে আমাদের সমাজের বেশির ভাগ বিয়েতে অধিক মোহর নির্ধারণ করতে দেখা যায়। যার পেছনে সাধারণত লোক দেখানোর মনোভাব কাজ করে থাকে। এমন করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়।
হজরত ওমর রা: মোহর নির্ধারণের েেত্র মানুষ দেখানো মনোভাব থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সাবধান!
তোমরা নারীদের মোহর বেশি করিও না। কেননা এটি যদি দুনিয়াতে সম্মানের এবং আখেরাতে আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় বিষয় হতো, তাহলে তোমাদের অপো এ ব্যাপারে মহানবী সা: অধিক উপযোগী ছিলেন (মিশকাত শরিফ, ১/২৭৭)।
আবার অনেক সময় অত্যধিক মোহর নির্ধারণ করে আর অন্তরে এমন ধারণা রাখে যে, তা কখনো আদায় করবে না। এ ব্যাপারেও হাদিস শরিফে কঠোর বাণী বর্ণিত হয়েছে। তাই অন্তরে এরূপ ধারণা রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে কাম্য নয় ।
আল্লাহ আমাদের তার হুকুম আহকাম মেনে চলার তৌফিক ভিক্কা দান করুন। আর দয়াল নবীর গোলাম হিসেবে কবুল করেন। আমিন!!
ফেসবুক ঃ- আশেকানে জৈনপুরী - হাদীয়ে বাঙ্গাল শাহ কারামাত আলী জৈনপুরী রহঃ) Jounpuri


Comments
Post a Comment