মহা বরকত পূরণ আশুরা বা দশই মহরম...।।.

<3 <3 <3 মহা বরকত পূরণ আশুরা বা দশই মহরম...।।....!! <3 <3 <3




###আশুরার মাহাত্ন্য




মহরম মাসের দশ তারিখ সারা দুনিয়াতে আশুরা নামে পরিচিত। আশুরার দশ তারিখ দুনিয়ার অন্যান্য যে কোন দিনের চাইতে অনেক বেশি সম্মানিত আর উল্লেখ যোগ্য।



কারন এই দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন লওহে মাহফুজ,কলম , সমস্ত সাগর মহাসাগর ,পাহার-পরবত ও সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন।
আদি পিতা আদম (আঃ) কে আল্লাহ তালা এই দিনে সৃষ্টি করে আবার এই তারিখেই জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। রাসুলে করিম (সঃ) এর পূব পুরুষ ইব্রাহিম (আ;) কে আল্লাহ এই দিনে সৃষ্টি করেছেন ও তার পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে আল্লাহ্‌র হুকুমে এই দিনে যবেহর স্থানে যবেহর জন্য শায়িত করা হয়েছিল। এই দিনে মিশরের বাদশা ফেরাউন মুসা (আ;) এর সাথে শত্রুতা করে নীল নদে দুবে প্রান হারিয়ে সিলেন।



বেহেস্তচুত আদম (আঃ) এর দোয়া আল্লাহ এই দিনে কবুল করেছিলেন। দয়াল নবীর নাতি ইমাম হোসায়েন (রাঃ) এই দিনে কারবালার ময়দানে এজিদের হাতে শহিদ হয়েসিলেন। এই ছাড়া আল্লাহ বেনেয়াজ তামাম মাখলুকাত ধধংস করিবেন ও কেয়ামত ঘটাবেন এই তারিখের কোন এক শুক্রবার। এই ছাড়া আল্লাহ তালা আর অনেক ঘটনা এই দিনে ঘটিয়েছেন ও ঘটাবেন। এই কারনে মহরম মাসের ১০ তারিখের এই মরতবা। এই তারিখটি ইসলাম জগতে আশুরা নামে পরিচিত।


আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

قال: قدم النبي – صلى الله عليه وسلم – المدينة فرأى اليهود تصوم يوم عاشوراء فقال: { مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ، هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى، قال: فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ } [رواه البخاري 1865].


নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। নবীজী বললেন, এটি কি? তারা বলল, এটি একটি ভাল দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। তাই মুসা আ. রোজা পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। অত:পর তিনি রোজা রেখেছেন এবং রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।{বোখারি:১৮৬৫}



সাহাবি আবু বাকরাহ রা. নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবীজী বলেন,

{السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ: ثَلاثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ } [رواه البخاري 2958]

বছর হলো বারোটি মাসের সমষ্টি, তার মধ্যে চারটি অতি সম্মানিত। তিনটি পর পর লাগোয়া জিলকদ, জিলহজ ও মুহররম আর (চতুর্থটি হলো) জুমাদাস সানি ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব। {বোখারি:২৯৫৮}



##মহরমের দিন রোজা রাখার ফজিলতঃ-



আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

{ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ }
অর্থাৎ, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহররম (মাসের রোজা)। { সহিহ মুসলিম,১৯৮২}


আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

{ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلّا هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ }
আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোজা রাখার জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যত দেখেছি এই আশুরার দিন এবং এই মাস অর্থাৎ রমজান মাসের রোজার প্রতি। {বোখারি:১৮৬৭}

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

{ صيام يوم عاشوراء، إني أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله }
আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। {সহিহ মুসলিম:১৯৭৬}

এটি আমাদের প্রতি মহান আল্লাহর অপার করুণা। তিনি একটি মাত্র দিনের রোজার মাধ্যমে পূর্ণ এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। সত্যই মহান আল্লাহ পরম দাতা।


আশুরার মাহাত্ন্য আগেই বলা হয়েছে। যেহেতু ইসলামে এই দিনের তাৎপয অনেক তাই এই দিনে রোজা রাখার ফজিলত অনেক। হাদিসের আলোকে তা হল।



***হযরত আব্দুল্লা ইবনে আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত -রাসুলে করিম (সঃ) এরশাদ করেছেন ঃ যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখে আল্লাহ তালা তাহাকে দশ হাজার ফেরেস্তার সওয়াব দানে করেন।


***অন্য হাদিসে পাওয়া যায়- যে ব্যক্তি আশুরার দিন রোজা রাখে তাহার আমল নামায় আল্লাহ ষাট হাজার বছর রোজা রাখার এবং ষাট হাজার বছর রাত্রি জাগরনের সওয়াব লিখে দেন।।



***হাদিসে পাওয়া যায় -যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখে আল্লাহ তালা তাহাকে ১০ হাজার শহিদ ও ১০ হাজার হাজির সওয়াব দান করিবেন।



##আশুরার দিনের আমলঃ-



***গুনিয়াতুল তালেবিন কিতাবে আছে- মহরম মাসের চাঁদ উদিত হইলে যে ব্যক্তি সন্ধার পড়ে ২ রাকাত করিয়া ৬ রাকাত নফল নামাজ (ফাতিহার পড়ে ৩ বার এখলাস দিয়ে ) পরিবে আল্লাহ তার সকল সৎ কাজের সাহায্য করেন। এই ছারাও এই দিনে নফল নামাজে বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়েছে।



আশুরার দিনে বেশি বেশি নফল নামাজ,দরূদ শরিফ,
ইসতেগফার,জিকির ফিকির, মিলাদ মাহফিল অনেক বরকত পূর্ণ। তবে কোন ভাবেই এই দিন জাক জমক ভাবে উজ্জাপন করা যাবে না। শরিয়তের ভিতর থেকে আল্লাহ হুকুম আহকাম মেনে কোরআন হাদিসের আলোকে পালন করতে হবে।



আল্লাহর দয়াল নবিজি ও তার আওলাদের উপর কোটি কোটি দরূদ ও সালাম। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন ও দয়াল নবীর গোলাম হিসেবে কবুল করে নিন। আমিন!!

Comments

Popular posts from this blog

হযরত আলাউদ্দিন আহমদ সাবের কালিয়ার (র) বড় পীরের পর সবচেয়ে জালালি ফায়েজের আউলিয়া।।

নবী প্রেমের ৪১টি পুষ্প!! কিছু গুরুত্বপূর্ণ দরূদ শরীফ ও তার ফজিলত।।

হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহঃ)